দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। অন্যদিকে বাংলাদেশের আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা আলমগীরের মেয়ে প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী আঁখি আলমগীর।
ছোটবেলা থেকেই মিঠুন চক্রবর্তীর মুভি দেখে আসছেন আঁখি আলমগীর। সেই থেকেই তাঁর প্রতি ভালো লাগা। মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখাও হয়েছে আঁখির, হয়েছে গল্প-আড্ডাও।
মিঠুনের সঙ্গে একাধিক ছবি পোস্ট করে কিছু অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন এই গায়িকা। নিজের ফেসবুকে আঁখি লিখেছেন, ‘ছোটবেলায় আমার খুবই পছন্দের নায়ক ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী এবং টম ক্রুজ। এখনো। তবে দুজনকে দুই রকমের পছন্দ। গতকাল ছিল মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিন, তাই ভাবলাম ছবিগুলো শেয়ার করি।’
অভিনয় ও গানের হিসাবে চার দশক ধরে বিনোদন অঙ্গনে কাজ করছেন আঁখি আলমগীর। ছোটবেলায় একবার পছন্দের নায়ক মিঠুনের সঙ্গে দেখা হতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হয়নি। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে আঁখি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘উনি (মিঠুন চক্রবর্তী) বাংলাদেশে যখন আসেন, তখন আমি বেশ ছোট। ঢাকা ক্লাবে মিঠুনের সম্মানে নৈশভোজের পার্টিতে আব্বু আমাদের নিয়ে যাবে বলল। আমরা সবাই রেডি। আব্বুও রেডি। কিন্তু হঠাৎ আব্বুর কাছে একজন সিনেমার পরিচালক এসে বললেন, পরের দিনের শুটিংয়ের কিছু পরিবর্তন আছে তাই এখনই স্ক্রিপ্ট নিয়ে বসতে হবে। আব্বুর কাছে অবশ্যই সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমাদের আর মিঠুন দর্শন হয়নি। তবে সেদিন কিন্তু আমার ভীষণ মন খারাপ হয়েছিল। গোপনে কান্নাও করেছিলাম।’
ছোটবেলায় দেখা না হলেও আঁখি যখন ব্যস্ত সংগীতশিল্পী, তখন মিঠুনের সঙ্গে দেখা হয়। তবে দেশের কোনো অনুষ্ঠানে নয়, দেশের বাইরে। লন্ডনের সেই অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে মিঠুন ও আঁখি আলমগীর পারফর্ম করেন। ২০০৬ সালের সেই অনুষ্ঠানে সাবিনা ইয়াসমীন, সামিনা চৌধুরী, আসিফ আকবর, চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী মান্না, মৌসুমীসহ আরও অনেকেই ছিলেন বলে জানান আঁখি আলমগীর।
আঁখি তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘২০০৬ সালের লন্ডনে একই মঞ্চে আমরা পারফর্ম করি। গ্রিন রুমে গল্প শুনলাম ওনার, সবার সঙ্গে তাঁর ছবি আমিই তুলে দিলাম। কারণ, আমি সব সময় ভালো ক্যামেরা সঙ্গে নিয়ে যেতাম। আমি যে তাঁর কত বড় ভক্ত এবং তাঁর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া সব সিনেমা, অখ্যাত কিন্তু দুর্দান্ত গল্প এবং অভিনয়ের সব সিনেমা আমার দেখা, নিউমার্কেট থেকে তাঁর পোস্টার কিনে ঘরে টাঙিয়ে রাখা—এসবের কিছুই সেদিন বলিনি। ওগুলো কম হয় আমাকে দিয়ে। কুশল বিনিময় আর আব্বুকে শুভেচ্ছা জানাতে বললেন। আমি সিনেমায় অভিনয় করতে আগ্রহী কি না, কেন করি না, তা জানতে চাইলেন। দায়সারা উত্তর দিয়ে কোনায় বসে ছিলাম। তিনি আমাকে চা বানিয়ে খাওয়ালেন গ্রিন রুমে। প্রিয় অভিনেতার সঙ্গে একই স্টেজে পারফর্ম করছি, সেই আনন্দ আমাকে আপ্লুত করেছিল। ফেসবুকে পোস্ট করা ছবিগুলো আজ সেই মুহূর্তের চেয়েও দামি মনে হচ্ছে। দুর্দান্ত একটা শো হয়েছিল। মধুর সব স্মৃতি।’
Fans
Fans