স্যাফটি ট্যাংকে পড়ে ৪ শ্রমিক সন্তানের মৃ ত্যু

অনির্বাণ সেনগুপ্ত (শ্রীমঙ্গল)::

প্রকাশিত:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে স্যাফটি ট্যাংকে পড়ে একই পরিবারের দুইজনসহ ৪ শ্রমিক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) রাত ১০ টার দিকে উপজেলার হরিণছড়া চা বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন- রানা পট নায়ক (১৭), শ্রাবণ পট নায়েক (১৯), কৃষ্ণ রবিদাস (২০) ও নিপেন ফুলমালি (২৭)। এরা সবাই শ্রীমঙ্গলের সীমান্তবর্তী হরিণছড়া চা বাগানের চা শ্রমিকের সন্তান।


এ ঘটনায় রবি বুনার্জী (২০) নামে অপর একজনকে আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসা শেষে বাগানে নিয়ে আসা হয়।


জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে দশটায় শ্রাবণ পট নায়েক মোবাইল ফোন নিয়ে টয়লেট যান, হঠাৎ তার হাতে থাকা মোবাইল টয়লেটের ভীতরে পড়ে গেলে সেটি উদ্ধার করতে তিনি স্যাফটি ট্যাংকের ভীতরে ঢুকে যান। অনেক সময় হয়ে গেলে ভাইয়ের খুঁজে টয়লেটের দিকে যান রানা পট নায়েক। ভাইকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি ও পড়ে যান ট্যাংকে, তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে প্রতিবেশী কৃষ্ণ রবিদাস ও নিপেন ফুলমালি পড়ে যান ট্যাংকের ভীতরে। 


সঙ্গে সঙ্গে আহতদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন এবং জানান স্যাফটি ট্যাংকের ভীতরের গ্যাসের বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে তাদের।


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, আমরা সব সময় দেখি এই অবহেলিত জনগোষ্টির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়ে অবহেলা করা হয়। এরকম একটি স্যাফটি ট্যাংকে পরে গিয়ে আমাদের ৪ জন মানুষ মারা যাওয়ার কথা ছিলো না। তারা এ ধরনের কাঁচা টয়লেট কেন ব্যবহার করবে। তাদের জন্য যেন পাকা টয়লেট ব্যবস্থা করা হয় আমরা সেজন্য দাবী জানাবো। পাশাপাশি এনসিপির পক্ষ থেকে তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে। 


ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, স্যাফটি ট্যাংকে পড়ে ৪ তরুণের মৃত্যুর বিষয়টি খুব দুঃখজনক। আমরা তাদের পরিবার,বাগান পঞ্চায়েত সহ সংশ্লিষ্ট জনের সাথে কথা বলেছি এ ব্যাপারে তাদের কোন অভিযোগ নেই,এখন পরবর্তী আইনি পক্রিয়াতে মৃতদেহ গুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছি।


ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন।তিনি টাইমস২৪ নিউজকে বলেন, আমরা সকালেই এই সংবাদ পাই, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানিয়েছি এবং উনার নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি পাশাপাশি পরিবারগুলোকে কিছু মানবিক সহায়তা প্রদান করি।

Follow Us