ঈদে ভ্রমণপিয়াসী মানুষদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল। উপজেলাটির প্রত্যেকটি এলাকাজুড়ে সৌন্দর্যের হাতছানি। বধ্যভূমি, সারি সারি চা বাগান কিংবা পাহাড়-টিলা সবকিছুই যেনো নতুন করে সেজেছে। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ আর পাখির কিচিরমিচির সব মিলিয়ে রূপের রানী শ্রীমঙ্গল এখন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। তাইতো ঈদুল আজহার লম্বা ছুটিতে শ্রীমঙ্গল হতে পারে ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু।
চলতি বছর ঈদুল আজহায় ৫ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছেন চাকুরিজীবীরা। অন্যদিকে গ্রীষ্মের ছুটিসহ ১৯ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে স্কুল-কলেজ। এই সুযোগে অনেকেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত শ্রীমঙ্গলকে বেছে নিচ্ছেন বেড়াতে যাওয়ার জন্য। অনেকে আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখছেন হোটেল-রিসোর্টসহ থাকার জন্য নিরাপদ জায়গা।
ইতিমধ্যে পর্যটকরা উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ হোটেল-রিসোর্ট অগ্রিম বুকিং দিয়ে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি ঈদের দিন থেকেই শ্রীমঙ্গলজুড়ে নামবে পর্যটকদের ঢল। আর গত বৎসরের মতো বন্যা বা কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বিগত দিনগুলোর তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বাণিজ্য হবে এই উপজেলায়।
ব্যবসায়ীদের দাবি শ্রীমঙ্গল এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সম্প্রসারিত। সুযোগ-সুবিধার দিকে দিয়ে সিলেট বিভাগের অন্যান্য পর্যটন এলাকার চাইতে শ্রীমঙ্গল অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকেও শ্রীমঙ্গল সেরাদের সেরা বলছেন তারা।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সারাবছরই শ্রীমঙ্গলে পর্যটকরা আসা যাওয়া করেন, সরকারি ছুটি হলে পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও ভারতের ভিসা বন্ধ থাকায় দেশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতেই যাচ্ছেন পর্যটকরা।
শ্রীমঙ্গলের পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বেশী রিসোর্ট রয়েছে রাধানগর, বিষামনি ও ডলুবাড়ি এলাকায়। বিষামনি এলাকায় অবস্থিত নভেম ইকো রির্সোট। নভেম ইকো রির্সোটের রির্সোট ম্যানেজার খাজা ময়েনউদ্দীন চিশতি বলেন, আমরা আশাবাদী প্রতি বছরের মত এ বছর ও প্রচুর পর্যটক হবে শ্রীমঙ্গলে। পর্যটক বরণে আমরা আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আমাদের বেশিরভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে।
লেমন গার্ডেন রির্সোটের সত্ত্বাধিকারী সেলিম মিয়া বলেন, পর্যটকদের কথা ভেবে আমরা সব ধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের বেশিরভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, আমাদের শ্রীমঙ্গলে সারাবছরই এখন পর্যটকরা আসেন। আমরা আশা করছি ঈদের লম্বা ছুটিতে চায়ের রাজ্যে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হবে।শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের আসা যাওয়ার একটি সমস্যা দীর্ঘদিনের। এখানে ট্রেনের টিকেট সংকটের কারনে পর্যটকরা টিকেট পান না। আমরা পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করি পর্যটকদের জন্য ঢাকা-সিলেট রোডে একটি নতুন ট্রেন সংযোগ করা হোক। পাশাপাশি যেসব জায়গায় রাস্তাঘাট সমস্যা আছে সেসব জায়গায় কাজ করলে পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন উভয় উপকৃত হবেন। তাছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আমরা এরইমধ্যে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্যও প্রস্তুত রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন,
পর্যটকরা যেন নির্ভিগ্নে ঘোরাফেরা করে সুন্দরভাবেই বাড়ি ফিরতে পারে আমরা সেভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে নজরদারি রাখছি।ইতিমধ্যেই আমরা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সাথে সভা করেছি।
শ্রীমঙ্গলের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), টি মিউজিয়াম, বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, নীলকণ্ঠ সাত রঙের চা কেবিন, চা–কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি-৭১, লাল পাহাড়, শঙ্কর টিলা, গরম টিলা, ভাড়াউড়া লেক, হরিণছড়া গলফ মাঠ, হজম টিলা প্রভৃতি । পাশাপাশি শ্রীমঙ্গলের পাশ্ববর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, নুরজাহান চা বাগান সড়ক পর্যটকদের বিমোহিত করে।
Fans
Fans