সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে অংশ গ্রহণ করে বিরল রেকর্ড স্থাপন করেছে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের অনুমোদনহীন দক্ষিণ দৌলতপুর হযরত শাহজালাল লতিফিয়া আইডিয়াল মাদ্রাসা।
মফস্বলের অভ্যন্তরে দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাসে ২০১২ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে অত্র প্রতিষ্ঠান।বর্তমানে শিক্ষার্থীদেরে সংখ্যা ৫৫০। আলীয়া মাদ্রাসার পাশাপাশি হিফজ শাখাও চালু রয়েছে। ১ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি হিফজ শাখায় অধ্যয়নরত রয়েছে ৭০ জন শিক্ষার্থী। সুবিশাল ক্যাম্পাসে অবস্থিত ৪তলা বিশিষ্ট মাদ্রাসাতে অধ্যয়নরত প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী আবাসিক ব্যবস্থাপনায় থেকেই পাঠদান করছেন। ২৮ জন শিক্ষক শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন মাওলানা মুফতি মুজিবুর রহমান।
এবার দাখিল ৬ষ্ঠ ব্যাচে ২৮ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ১১টি A+সহ (৩টি গোল্ডেন A+) শতভাগ সফলতা অর্জন্ করে। নিজেদেরে নামে অনুমোদন না থাকায় পাশ্ববর্তী রুস্তমপুর সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসার নামে শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করেন। নিজের অর্জন্ অন্যের নামে সাফল্যগাথা হওয়ায় শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মনে তেমন আনন্দ থাকেনা। ৬কিয়ার ভূমি নিয়ে সু-বিশাল ক্যাম্পাসে কাগজ জটিলতায় অনুমোদন সম্ভব হয়নি। প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি মুজিবুর রহমান বলেন,আগামীতে আমাদের মাদ্রাসায় আলীম শ্রেণি পর্যন্ত (এইএচএস) সমমান পাঠদানের প্রস্তুতি রয়েছে। অচিরেই সমুদয় কাগজপত্র মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুকুলে জমা দেয়া হবে।ফলাফলের নিরিখে দ্রুতই অনুমোদনের আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।গর্বিত ফলাফল নিয়ে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা। ওদিকে,উপজেলার ১৭টি অনুমোদিত মাদ্রাসার ফলাফল গতবারের চেয়ে নিম্নমানের হয়েছে। নতুন আঙ্গিকে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নে গভীর পর্যবেক্ষণকে দায়ি করেন শিক্ষক বৃন্দ।
শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার ১৭টি মাদ্রাসায় থেকে ৮৮০ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ৬৬১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পরিসংখ্যান ও প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক ফলাফলে দেখাযায়, সৈয়দপুর বাজার ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৬৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয় ৫১ জন। A+ ১টি,পাশের হার ৭৮.৪৬ %, তাহিরপুর আলীম মাদ্রাসায় ৩১ শিক্ষার্থীর মাধ্যে ২৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। A+ ১টি,পাশের হার ৯০.৩২ %, হজালাল (রহ:) আলীম মাদ্রাসা থেকে ৩৯ জন অংশ গ্রহণ করে ২৯ জন উত্তীর্ণ হয়। A+ ১টি,পাশের হার ৭৮.৩৬ %। দিনারপুর ফুলতলী গাউছিয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৫৫ জনের মধ্যে ৪৬ জন উত্তীর্ণ হয়।পাশের হার ৮৩.৬৪ %,রুস্তমপুর সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ৭৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। A+ ১২টি,পাশের হার ৭৯.৭০ %,মোস্তফাপুর আনোয়রুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৬৬ শিক্ষার্থী নিয়ে ৪৬ জন উত্তীর্ণ হয়। পাশের হার ৬৯.৭০ %,দারুল হিকমাহ জামেয়া ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসা থেকে ৭৭ শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ৭৩ জন উত্তীর্ণ হয়। A+ ৪টি,পাশের হার ৯৪.৮১ %,দিনারপুর দাখিল মাদ্রাসা ৪৭ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ২৮ জন উত্তীর্ণ হয়। A+ ২ টি,পাশের হার ৫৯.৫৭ %,কসবা ইসলামিয়া দাখিল থেকে ২৭ জন অংশ গ্রহণ করে ১১ জন উত্তীর্ণ হয়। পাশের হার ৪০.৭৪ %,কাজীগঞ্জ বাজার দাখিল মাদ্রাসা ৫৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৩৬ জন উত্তীর্ণ হয়।পাশের হার ৬৭.৯২ %।মাধমপুর গালিমপুর দাখিল মাদ্রাসা ৪২ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৪১ জন উত্তীর্ণ হয়। পাশের হার ৯৭.৬২ %,মুকিমপুর আলীম মাদ্রাসা থেকে ৮৭ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ৪৪ জন উত্তীর্ণ হয়। A+ ১টি,পাশের হার ৫০.৫৭ %,নহরপুর দাখিল মাদ্রাসা ৪৭ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে করে ৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়।পাশের হার ৮২.৯৮ %,পাঞ্জারাই দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৬১ শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়। পাশের হার ৬৩.৯৩ %,আউশকান্দি ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদ্রাসা ৩৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৫ জন উত্তীর্ণ হয়।পাশের হার ৭৩.৫৩ %,কুর্শি দাখিল মাদ্রাসা ২০ শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ১১ জন উত্তীর্ণ হয়। পাশের হার ৫৫ %,তাজিয়া মোবাশ্বিরিয়া আলীম মাদ্রাসা থেকে ৪৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৩৬ জন উত্তীর্ণ হয়।,পাশের হার ৭৩.৪৭ %,কাজীগঞ্জ বাজার দাখিল মাদ্রাসা ৫৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৩৬ জন উত্তীর্ণ হয়।পাশের হার ৬৭.৯২ %।
Fans
Fans