মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সাংবাদিক জসীম উদ্দীন ও তাজুল ইসলাম

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি::

প্রকাশিত:

সাংবাদিকতা শুধুমাত্র কলমের ভাষায় সংবাদ পরিবেশন নয়, এটি এক অসীম দায়িত্ববোধ, সাহসিকতা এবং মানবতার এক অনন্য যাত্রা। এই মহান পেশার গর্বিত উত্তরসূরি হয়ে নবীগঞ্জের দুই সাংবাদিক, দৈনিক দেশের পত্র পত্রিকার প্রতিনিধি জসীম উদ্দীন ও তাজুল ইসলাম। প্রমাণ করেছেন—একজন প্রকৃত সাংবাদিক কখনো শুধু পর্যবেক্ষক নয়, বরং সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন সহযোদ্ধা।


গত ৮ জুলাই, নবীগঞ্জ শহরে ঘটে ভয়াবহ সংঘর্ষ। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন শহরজুড়ে তিন দিন যাবত ১৪৪ ধারা জারি করে। এতে পুরো শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি হয়ে যায়। বিশেষ করে চরম বিপাকে পড়েন অসুস্থ ও বৃদ্ধরা। অনেকেই জীবন রক্ষাকারী জরুরি ঔষুধের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, কিন্তু কোনো উপায় ছিল না।


এই কঠিন সময়ে শহরের অন্য সবার মতো সংবাদ সংগ্রহে মাঠে ছিলেন সাংবাদিক জসীম উদ্দীন ও হবিগঞ্জের স্থানীয় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার প্রতিনিধি তাজুল ইসলাম। কিন্তু এখানেই তাদের পেশাগত সীমা শেষ হয়নি। বরং এখান থেকেই শুরু হয় একটি মানবিক মিশন।

তারা তাৎক্ষণিকভাবে ফেসবুকে পোস্ট ও লাইভ করে জানিয়ে দেন।


যেসব অসুস্থ রোগীর জরুরি ঔষুধ ঘরে নেই, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমরা ঔষুধ কিনে পৌঁছে দেবো।”


এই সাহসী ঘোষণা মুহূর্তেই মানুষের মাঝে আশার আলো জাগিয়ে তোলে। অসংখ্য ফোন আসতে শুরু করে তাদের কাছে। একজন পেশাদার সাংবাদিক হয়েও তারা সেই মুহূর্তে হয়ে উঠেন সমাজের সেবক। পার্শ্ববর্তী আউশকান্দি বাজার থেকে নিজেদের অর্থে ঔষুধ কিনে অসুস্থ রোগীদের বাসায় বাসায় গিয়ে পৌঁছে দেন। তাদের এই কাজ সমাজে সৃষ্টি করে ব্যতিক্রমী আলোড়ন ও প্রশংসা।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন—এমন উদ্যোগ সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সাংবাদিকতার গণ্ডি পেরিয়ে সমাজ সেবায় যে ভূমিকা তারা রেখেছেন, তা অনুকরণীয়।


নবীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, তাদের সাহসিকতা ও মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন সত্যিকারের সাংবাদিকের পরিচয়।”


নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর কলেজের অধ্যক্ষ তনুজ রায় বলেন, জসীম ও তাজুল শুধু সাংবাদিক নয়, তারা মানবতার প্রতিচ্ছবি। তাদের মতো মানুষ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা। এই দুই সাংবাদিক আমাদের সমাজের সেই আলো, যারা শুধু অন্যদের খবর পরিবেশন করেন না, নিজেরাই একজন সংবাদ হয়ে ওঠেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হলো—সাংবাদিকতা শুধুমাত্র পেশা নয়, এটি একটি মানবিক প্রতিজ্ঞা। এই প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়ন করেই তারা সমাজে দেখিয়ে দিয়েছেন সত্যিকারের ‘সাংবাদিকতা’ কী। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নামই মানবতা। আর এই মানবতার অগ্রভাগে দাঁড়িয়ে আছেন জসীম উদ্দীন ও তাজুল ইসলাম। তাদের এই মহতী উদ্যোগ শুধু প্রশংসনীয় নয়, বরং সমাজের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য একটি উদাহরণ।

Follow Us